ইসলামী পুনর্জাগরনঃ সমস্যা ও সম্ভাবনা

0/5 No votes

Report this app

Description

আবার এটাও আমাদেরকে স্মরন রাখতে হবে যে, উপদেষ্টাদের প্রতি যদি তরুণদের আস্থা না থাকে তবে সেসব উপদেষ্টার উপদেশ অর্থহীন। পারষ্পরিক আস্থা না থাকলে প্রতিটি উপদেশ বাগাড়ম্বরের নামান্তর। প্রকৃতপক্ষে সরকার নিযুক্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শরীয়তের শিক্ষার যে যথার্থ প্রতিফলন ঘটে না তা মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এগুলো আসলেই সরকারের হাতের ক্রীড়নক মাত্র। তারা যদি সত্যিকার অর্থে সমাজে তাদের প্রভাব রাখতে চায় তবে সর্বপ্রথম তাদের ঘরকেই আগে সাজাতে হবে। এজন্যে তাদেরকে সদা অস্থির রাজনৈতিক কুচক্রের মধ্যে জড়িয়ে পড়া চলবে না। তাদের প্রধান কাজ হবে এমন এক দল ফকীহ গড়ে তোলা যারা হবে ইসলাম সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ও যুগসচেতন অর্থাৎ কুরআনের ভাষায় “যারা আল্লাহর বাণী পৌঁছিয়ে দেয় এবং তাঁকে ছাড়া আর কাউকে ভয় করে না।” (৩৩ : ৩৯) বস্তুত আমাদের বর্তমান সমাজে এরূপ অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন সৎ মনীষীর প্রয়োজন অনস্বীকার্য। কেবল এরাই ইসলামী পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে তরুণ সমাজকে সঠিক পথ নির্দেশ দিতে পারেন। যেসব লোক ইসলামী পুনর্জাগরণ থেকে দূরে সরে আছেন অথবা এর আশা-আকাঙ্খা উপলব্দি না করে এবং হতাশা ও দুর্ভোগের অংশীদার না হয়েই কেবল সমালোচনা করে চলেছেন তারা কখোনোই এই আন্দোলনের ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে না। আমাদের একজন প্রাচীন কবি লিখেছেন : “যারা নিঃস্বার্থ যাতনা ভোগ করে তারা ছাড়া আর কেউ তীব্র আকাঙ্খার তীক্ষ্ম বেদনা উপলব্ধি করতে পারে না।” ইসলামের প্রচার ও প্রসারে যাদের হৃদয়ে আকাঙ্খা নেই তারা আসলেই আত্মকেন্দ্রিক আর এসব লোকের কোনো অধিকার নেই ইসলাম অনুরাগীদের ভুল ধরার অথবা তাদের সংশোধনের জন্যে নসিহত করার। যদি তারা গায়ের জোরে এই অধিকার প্রয়োগ করতে চায় তাহলে কেউ তাদের কথায় কর্ণপাত করবে না।

 

উপসংহারে, আমার পরামর্শ হচ্ছে যারা তরুণদের উপদেশ দিতে আগ্রহী তাদেরকে পাণ্ডিত্যাভিমান পরিহার করে আইভরি টাওয়ার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ধুলির ধরণীতে নেমে এসে তরুণদের সাথে মিশতে হবে। যুব সমাজের আশা-আকাঙ্খা, সংকল্প, উদ্দীপনা ও সৎ কর্মগুলোর যথাযথ মূল্যায়ণপূর্বক তাদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য করতে হবে যাতে তাদেরকে সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook comments